Festival in West Bengal (বাংলার উৎসব )

বাংলার উৎসব ( Festival in West Bengal )

Indian festival,bengal festival,Lord Ganesh

কথায় আছে বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বণ । উৎসব ও পার্বণের দিনগুলিতেই বাঙালির প্রাণের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। নানান ধর্মের মানুষ বছর জুড়ে নানান সময়ে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলি নিষ্ঠার সঙ্গে উদ্যাপন করে থাকেন। এইসব উৎসবের মধ্যে দিয়েই মানুষে মানুষে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সুদৃঢ় হয় সামাজিক বন্ধন। বাঙালির জীবনে অভাব, অনটন, দুঃখ, দারিদ্র্য লেগেই আছে। কিন্তু বাঙালির জীবনের গতিকে এগুলাে থামাতে পারেনি। কারণ ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির মানসিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে আসে বারাে মাসে তেরাে পার্বণ। এই পার্বণ বা উৎসবগুলাে আমাদের জীবনের নানা গ্লানি দূরে সরিয়ে কাজে নতুন প্রেরণা এনে দেয়। এছাড়া উৎসব শান্তি, মিলন ও মৈত্রীর ত্রিবেণী বাঁধনে বাঁধে। বাংলার উৎসব উৎসব হল একধরনের পারিবারিক ও সামাজিক আনন্দের মিলনক্ষেত্র। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের তুচ্ছতা ও একঘেয়েমি দূর করবার জন্য বিশেষ দিনে বা তিথি উপলক্ষে যে আয়ােজন করা হয় তাকে উৎসব বলে। বাংলার উৎসবগুলিকে মােটামুটি চারভাগে ভাগ করা যায়। যেমন—ধর্মীয় উৎসব, ঋতু উৎসব, সামাজিক উৎসব এবং জাতীয় উৎসব। আমাদের এই বাংলা সবধর্মের মিলন স্থল। তাই এখানে বিভিন্ন ধর্মের একটা না একটা উৎসব প্রায় প্রতি মাসে লেগেই থাকে। ধর্মীয় উৎসবগুলি যেমন—হিন্দুদের দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা, সরস্বতী পূজা, চড়ক উৎসব, রাসযাত্রা প্রভৃতি। মুসলমানদের মহরম, ইদলফেতর, শবেবরাত এবং খ্রিস্টানদের বড়ােদিন, ইস্টার স্যাটারডে, গুড ফ্রাইডে ইত্যাদি। ঋতু উৎসবগুলি বিভিন্ন ঋতুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই পরিকল্পনা করা হয়। যেমন- বর্ষামঙ্গল, ধান্যরােপন, নবান্ন, অরন্ধন, পিঠাপার্বন, বসন্ত বা দোল উৎসব ইত্যাদি। সামাজিক উৎসবগুলি বাড়ির কোনাে কিছুকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যেমন— অন্নপ্রাশন, বিবাহ, ভাতৃদ্বিতীয়া, জামাইষষ্ঠী, জন্মদিন, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ইত্যাদি। দেশের বা জাতির বিশেষ স্মরণীয় দিন অর্থাৎ দেশকে যাঁরা গৌরবান্বিত করেছেন তাদেরকে স্মরণ করার জন্য আমরা উৎসবে মেতে উঠি। স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, নেতাজীর জন্মদিন, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন এই জাতীয় উৎসবের মধ্যে পড়ে। বিচ্ছিন্নতা মানবজীবনের পক্ষে দুঃসহ, মিলনেই মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ সার্থকতা। আদিম জীবনেও মানুষ গােষ্ঠীবদ্ধ জীবন যাপন করত। বিভিন্ন গােষ্ঠীর মিলনে গড়ে ওঠে সমাজ। পারস্পরিক মেলামেশায় সুখ-দুঃখের অংশভা হওয়া সামাজিক জীবনেধান বৈশিষ্ট্য। হৃদয়বান মননজীবী মানুষ তাই একা থাকতে পারে না। নিজের আনন্দকে সকলের সঙ্গে ভাগ করে উপভােগ করে। নানা উপলক্ষে তারা মিলিত হয়ে আনন্দে মাতে। এই আনন্দ অনুষ্ঠানগুলিই উৎসব নামে পরিচিত। উৎসব তাই মিলনােৎসুক প্রাণের আনন্দের অভিব্যক্তি। সমাজজীবনে উৎসব নিয়ে আসে উদার মিলনের আহ্বান। হৃদয়বান মানুষ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রাত্যহিক জীবনের বৈচিত্র্যহীনতা থেকে মুক্তিলাভ করে। মিলনের উদার আঙ্গিনায় হৃদয়ে হৃদয়ে যােগসূত্র স্থাপিত হয়। ব্যক্তি মানুষ নিজের মধ্যে মানবতার তাৎপর্য উপলব্ধি করে।
Indian festival,bengal festival,holi,rangoli,girl

উৎসবের বৈশিষ্ট্য :

 উৎসব বলতে আমাদের শাস্ত্রীয় ও লৌকিক দু ধরনের আনন্দানুষ্ঠানকেই বুঝে থাকি। তা শুধুমাত্র লােকাচারের মধ্যেই সীমিত নয়। তিথি, মহাপুরুষের জন্ম-মৃত্যু, রাষ্ট্রের জন্মদিন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, বিপ্লব ইত্যাদিতে ঘিরেও একালে উৎসব হয়। একসময় যে উৎসব সৃষ্টি হয়েছিল ভয়, বিশ্বাস ও সংস্কারকে ঘিরে, কালান্তরে তাই নির্মল শান্তি, মৈত্রী ও প্রীতির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র দিন একাকী কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ।”মানুষের জীবনের প্রধান কাজ কর্তব্য পালন করা। বিচিত্র সব কাজ জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনের সঙ্গে। বৃত্তি অনুযায়ী কাজের পার্থক্য ঘটে থাকে। কিন্তু জীবনের প্রতিটা স্তরের এবং সমাজের প্রতিটা শ্রেণির মানুষের কিছু দায়িত্ব ও কাজের ভার থাকে। এই বিচিত্র কাজের ওপর ভর করেই সংসার চলেছে। জীবনের যে প্রাথমিক স্তরে মানুষ সামাজিক দায়িত্ব পালন করে না সেই সময়েও ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের জন্য সে নিজেকে তৈরি করে। মানুষের গােটা অস্তিত্বই কাজের মধ্যে। কাজের সাফল্যেই তার সার্থকতা। কিন্তু এই কাজে ঘেরা জীবনেও প্রচুর গুরুত্ব আছে উৎসবগুলাের। উৎসব ও কাজ—এই দুয়ের মিলেই মানুষের জীবন সার্থক হয়ে উঠতে পারে। উৎসবের মূল লক্ষ্য হল মিলন। মানুষের সঙ্গে মানুষের মনের মিলন। নিজেকে | বহুর মধ্যে বিকশিত করাই হল উৎসবের উদ্দেশ্য। মানুষর সংকীর্ণতা, হীনতা, নীচতাকে পরিশুদ্ধ করে উৎসব মানুষের মূল্যবােধের প্রসার ঘটায় ও মনুষ্যত্ববােধ জাগ্রত করে।

Indian God,bengal festival,durga puja

উৎসবের শ্রেণিবিভাগ :

উৎসবের নানান রূপ, নানান বৈচিত্র্য। ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক উৎসব, ঋতু উৎসব ও জাতীয় উৎসব ভেদে উৎসবকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। প্রতিটি উৎসবের স্ব স্ব গুরুত্ব বর্তমান। ভারতবর্ষ ধর্মের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। তাই এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আধিক্য বেশি। গণেশ ঠাকুরের পুজো দিয়ে শুরু। তারপর একের পর এক সামাজিক নানান। সামাজিক-সাংস্কৃতিক বদলের দিকে লক্ষ রেখে আমাদের উৎসবগুলােকে কয়েকটা বিষয়গত বিভাগে ভাগ করা যেতে পারে :

 (১) বৈদিক উৎসব :

 নামকরণ, অন্নপ্রাশন, পৈতে, বিয়ে, অভদয়িক বা ঋষিশ্রাদ্ধ, পার্বণশ্রাদ্ধ ইত্যাদি।এইসব উৎসব ছাড়াও বাঙালির সামাজিক উৎসবের মধ্যে অন্নপ্রাশন, জন্মদিন, বিবাহ, বিভিন্ন ব্রত-পার্বণ রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবগুলি প্রধানত দেবদেবীকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়, দেবদেবী মাহাত্ম্য কথা বর্ণিত হয়। মানব কল্যাণ। কীভাবে আসে তারই পথ-নির্দেশ পায় মানুষ। এছাড়া যুগপুরুষােত্তম যারা উৎসবের বর্তমান আসেন, তাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় মানুষ উৎসবে ব্ৰতী হয়। এ ধরনের উৎসব বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। দেবদেবী কল্পিত, কিন্তু জীবন্ত আদর্শ বাস্তব। তাঁরা জীবন দিয়ে মানবকল্যাণের পথ নির্দেশ করে। এখানেই মানুষ জীবনবৃদ্ধির পথের সন্ধান পায়।

Indian festival,bengal festival,RAM nobomi


ALSO READ :বিভিন্ন মশলার উপকারিতা (Benefits of Diffrent Spice)

(২) পৌরাণিক (শাস্ত্রীয়) উৎসব :

 নাম মহােৎসব, সত্যনারায়ণ বা সত্যপির উৎসব, সরস্বতী, চণ্ডী, মনসা, ধর্মদেবতা বিষয়ক উৎসব, জন্মাষ্টমী, রথযাত্রা, দোলযাত্রা, রাধাষ্টমী, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো, শিবরাত্রি, দুর্গোৎসব, জগদ্ধাত্রীপুজো, দেওয়ালি, কার্তিক পুজো, খ্রিস্টমাস, গুডফ্রাইডে, বুদ্ধপূর্ণিমা, মহরম, ঈদ-উল-ফিতর, মহাবীর জয়ন্তী ইত্যাদি। এখন সামাজিক কাঠামাে বদলে নতুন ধরনের উৎসবের জন্ম হচ্ছে। বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসব দুর্গাপূজা ও ইদ। হিন্দুদের মধ্যে পালিত হয় লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা, সরস্বতীপূজা, বিশ্বকর্মাপূজা, মনসাপূজা, ধর্মপূজা প্রভৃতি। মুসলিম সম্প্রদায়ের উৎসবগুলির মধ্যে রয়েছে মহরম, ইদ, সবেবরাত ইত্যাদি। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা পালন করেন খ্রিস্টজন্মদিবস, গুড ফ্রাইডে, ইস্টার স্যাটারডে প্রভৃতি উৎসব।

Indian festival,bengal festival,dweali,light utsab

ALSO READ:

WB PSC FOOD SI EXAM ANSWER-2019, ওয়েস্ট বেঙ্গল ফুড এস আই পরীক্ষার উত্তর পত্র:EVS MCQ-9

(৩) লােক উৎসব :

চড়ক-গাজন, বনদুর্গা, বনবিবি, পির ও গাজির উৎসব, লালনােৎসব, ইদ, ইতু, টুসু, ভাদু, বিশ্বকর্মা, গন্ধেশ্বরী, নবান্ন, আউনি বাউনি ইত্যাদি।এছাড়াও প্রাচীনকালে পুকুর প্রতিষ্ঠা, ভূমিদান, গাছ লাগানাে ইত্যাদি উপলক্ষেও উৎসব হতাে।  এছাড়াও বাঙালি নবান্ন, পৌষপার্বণ, দোলযাত্রা, নববর্ষ  লােক উৎসব, বনমহােৎসব, নদী উৎসব, যাত্রা উৎসব, নাট্য  ইত্যাদি উৎসবে শামিল হয়।সামাজিক উৎসব সামাজিক বন্ধন রক্ষার উৎসব। সামাজিক সত্তার পােষণের উৎসব। মানুষ পারিপার্শ্বিক ছাড়া বাঁচতে পারে না। সামাজিক উৎসবের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক মধুর হয়। হিংসা, অসূয়া, পরশ্রীকাতরতা মন থেকে অপসারিত হয়। সৌজন্য, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতাবােধ জাগ্রত হয়। ঋতু উৎসব প্রকৃতিকেন্দ্রিক। প্রকৃতির বৈচিত্র্য মানুষের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ঘরকন্নার সম্পর্ক। নবান্ন উৎসব নতুন ফসলের উৎসব। প্রকৃতির দান মানুষ দু-হাত ভরে নেয়। মানুষও প্রকৃতিকে নানান উৎসবের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয়।

Indian festival,bengal festival,raksha bandhan,lamp,rakhis

(4) জাতীয় উৎসব :

 স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট), প্রজাতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি), রবীন্দ্র জয়ন্তী, গান্ধি জয়ন্তী, নেতাজি জন্মােৎসব, মে দিবস ইত্যাদি।  স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, রবীন্দ্র জয়ন্তী, নজরুল জয়ন্তী, নেতাজি জয়ন্তী প্রভৃতি দিনগুলিকে বাঙালিরা জাতীয় উৎসব রূপে পালন করে থাকেন।বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন আর শ্রীনিকেতনে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কৃষি-পরিবেশে কর্মপ্রেরণা আনতে কিছু উৎসবের সূচনা করেছিলেন। এগুলাে হল; হলকর্ষণ, বনমহােৎসব, পৌষমেলা ও বসন্তোৎসব ইত্যাদি। জাতীয় উৎসব মানুষের জাতীয়তাবােধের উন্মেষ ঘটায়। বহু সম্প্রদায়ের মানুষে গড়া সমাজ। সামাজিক রীতি, কৃষ্টি, অনুষ্ঠানের ভিন্নতা সেখানে রয়েছে। ধর্মীয় সংকীর্ণবােধ অনেক সময় মাথা চাড়া দেয়। মেতে ওঠে হিংসায়। জাতীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সংহতি আনে।

Indian national festival,bengal festival,flag,independent day

উৎসবের অশুভ ফলাফল:-

 মানুষের জীবনে উৎসব আড়ম্বরের ফলে অলসতা, কাজের প্রতি অনীহা ও হুজুগপ্রিয়তা মাথা চাড়া দেয়। প্রধানত এই হিসেবে অনেকে। উৎসবকে ভালাে চোখে দেখেন না। তাদের মতে উৎসবে অকারণে শক্তি ও অর্থ ক্ষয় হয়। আমাদের দেশ গরিব। বহু লােক খাওয়া-পরা ও চিকিৎসার সুযােগ থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে উৎসবকে ঘিরে যে অসম প্রতিযােগিতার দৌড় চলেছে তাতে সাধারণ মানুষের নাজেহাল অবস্থা। সেখানে একটা উৎসবে বাজি পােড়ানাে, আলাে ও মণ্ডপসজ্জায় অকারণ প্রতিযােগিতা নিষ্ঠুরতাই মনে হয়। এই টাকা অনায়াসেই একটা স্কুল, কারখানা বা হাসপাতাল বা সমাজকল্যাণমূলক কাজে লাগানাে যেতে পারে। শুধু খরচের দিক দিয়েই নয়, অতিরিক্ত ভাবাবেগ মানুষের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে দেয়। আমেরিকায় প্রতি বছর বড়ােদিনের উৎসবে কার র্যালি রেসের উন্মত্ততায় বেশ কিছু লােক প্রাণ হারান। আমাদের দেশেও বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে হতাহতের সংখ্যা বড়াে একটা কম হয় না। বিভিন্ন পুজোর চাদা আদায়ের দাবিতেও মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধর্মীয় মনুষ্ঠানে তারস্বরে মাইক বসানাে হয়। বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকদের জন্মদিন উপলক্ষে বর্তমানে দেদার অর্থ অপচয় করে উৎসব পালন হচ্ছে। ( উৎসবগুলােকে ঘিরে বাজার দর আকাশছোঁয়া হয়। পুজো-ই-বড়ােদিন সবেতেই এটা লক্ষ করা যায়। নিত্য প্রয়ােজনীয় জিনিসের চাহিদা বেড়ে গিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ফলে উৎসবের দিনগুলােয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। সবচেয়ে ক্ষতিকর হল উৎসবগুলাে প্রায়ই আড়ম্বরের আতিশয্যে আসল মূল্যবােধগুলােকে হারিয়ে ফেলে। হিন্দুদের শারদ উৎসব, খ্রিস্টানদের বড়ােদিন ও মুসলমানদের ইদের মতাে মিলন উৎসবের আন্তরিকতাও কৃত্রিম আড়ম্বর ও জাঁক জমকের কাছে চাপা পড়ে যাচ্ছে। চারপাশে এমন রীতি পঁড়িয়ে গেছে বিশেষ কিছু সময়ে জামাকাপড় কেনা ও দেখানােই অনুষ্ঠানের অঙ্গ হয়ে গেছে। ফলে উৎসবগুলাে হয়ে উঠেছে ভক্তিহীন, নিষ্ঠাহীন ও আড়ম্বরসর্বস্ব। উৎসবে নানান রকম বিকৃতিও এসে জুটেছে। উৎসব যেন একটা কর্মবিমুখতার হাওয়া। ফলে যত কাজই থাকুক উৎসবের কটা দিন আরাম-আয়াসের স্রোতে ভেসে যায় অধিকাংশ মানুষ। রুচিহীনতা ও উশৃঙ্খলতা মানুষকে অসংয করে তােলে।

ALSO READ: –জল দূষণের কারন কী? (what are the Causes of  Water Pollution?)


উৎসবের শুভ ফলাফল :

 উৎসব মানুষের একঘেয়ে জীবনে একটা মুক্তির হাওয়া নিয়ে আসে। সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই চিন্তায় ভাবনায় রােগে-শােকে দারিদ্র্যে কষ্ট পায়। দৈনন্দিন সমস্যায় মানুষের জীবনীশক্তি যখন ফুরিয়ে আসে উৎসব তখন নিয়ে আসে নতুন প্রাণশক্তি। এখন মানুষ বেশি করে অনুভব করে উৎসবের প্রয়ােজনীয়তা। উৎসবের মধ্যে দিয়েই মানুষ জীবনকে নানাভাবে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পারে। উৎসব মানুষকে অনুভূতির সেই স্তরে উন্নীত করে যখন মানুষের মন বলে ওঠে– “আমি সহসা আমারে চিনিয়া ফেলেছি। উৎসবই হল মানুষের ভাব বিনিময় ও রুচি বিনিময়ের প্রধান ক্ষেত্র। এছাড়াও উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে কিছু শ্রেণির মানুষের রুজি রােজগার। অনেকেই বছরের খােরাক সংগ্রহ করে নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই উৎসবে যােগ দেয়। কারণ বর্তমানে উৎসব সার্বজনীন। সেখানে কোনাে ভেদাভেদ নেই। উৎসবের উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষে মানুষে প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করা, হৃদয়কে প্রসারিত করা, নির্মল আনন্দলাভ ও অবসর বিনােদন। মানবজীবন পরিবর্তনশীল। জীবনের মতাে উৎসবেও এসেছে নানা পরিবর্তন। সূতরাং উৎসব তখনই সফল:যখন কোনাে উৎসবে গড়ে উঠবে অকৃত্রিম আন্তরিকতা, অনাবিল আনন্দ, ভেদহীন বন্ধুতা সুরুচি, শিল্পের প্রকাশ- থল। মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর। নিজ স্বার্থ চিন্তায় আমাদের রােজকার জীবন আবর্তিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই প্রসঙ্গে লিখেছেন—“প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী কিন্তু উৎসবের দিন মানুষ বৃহৎ সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ—সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ”।

Indian national festival,bengal festival,sweets,food

 উপসংহার :

উৎসব ও কাজ এই দুয়ের সমন্বয়েই মানবজীবন সার্থক হয়ে ওঠে। কর্ম ঘেরা জীবনে মানুষ যখন ক্লান্ত তখন উৎসব নিয়ে আসে বৈচিত্র্য। বর্তমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎসবেও এসেছে নানা পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কিছুটা বাইরের ও কিছুটা ভেতরের। বিত্তবানদের গণ্ডি থেকে উৎসব মিশে গেছে আপামর জনসাধারণের মধ্যে। উৎসব হয়ে উঠেছে সার্বজনীন। সেখানে উৎসব হয়তাে কিছুটা পবিত্রতা, নিষ্ঠা, শুচিতা হারিয়েছে কিন্তু ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলে উৎসবে যােগ দিতে পেরেছে। বর্তমানে কেউ আর উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত নয়। প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উৎসবকে উপভােগ করে। উৎসবের যেমন নানান রূপ তেমনই রয়েছে আঙ্গিক মাফিক গুরুত্ব। কখনাে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি উৎসবের মহিমাকে কিছুটা মলিন করে দেয়। তবুও উৎসবই মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব কমিয়ে কাছাকাছি আনতে পারে। সুতরাং আমাদের দেখতে হবে উৎসব যেন সর্বসাধারণের হয় এবং তার প্রকৃত মূল্যবােধ না হারায়।সমাজ সচল, জীবনও কালের নিয়মে একদিন উৎসবেরও রূপান্তর ঘটে যাবে। আমাদের উৎসবের সে আগেকার গৌরব নেই। ব্যক্তিকেন্দ্রিক উৎসব বাঙালির অতীত গৌরব হারিয়েছে, হারিয়েছে আনন্দ। বাঙালির সার্বজনীন উৎসবগুলােও কেমন যেন মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে। আশা করি ভবিষ্যতে ফের উৎসবগুলাে অতীতের মহৎ ভাবের বিকাশ ঘটাবে, কল্যাণী ইচ্ছা দিয়ে আমরা এক জাতি, এক প্রাণ, একতা গড়ে তুলতে পারব। যাহা অকালপ্রয়াত বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর হৃদয়স্পর্শী ভাষায় উৎসবের তাৎপর্য চমৎকার ব্যাখ্যা করেছেন : “আমার আনন্দে সকলের আনন্দ হউক, আমার শুভে সকলের শুভ হউক, আমি পাই তাহা পাঁচজনের সহিত মিলিত হইয়া উপভােগ করি। এই কল্যাণী ইচ্ছাই উৎসবের প্রাণ।” এ উৎসব ও আধুনিক জীবন ও যন্ত্রসভ্যতার প্রভাবে মানবজীবনেও যান্ত্রিক নিপ্রাণতা অনুপ্রবেশ করছে। অর্থসম্পদের পিছনে, স্থূলতর জৈবিক সুখের সন্ধানে আধুনিক মানুষ সদাব্যস্ত। সামাজিকতার হার্দ্য সম্পর্ক বিলুপ্ত করে তারা হয়ে পড়েছে আত্মকেন্দ্রিক।

Indian national festival,bengal festival,holi,colour

ALSO READ : WATER CRISIS FACTS IN INDIA 2019.

Reference :-
রচনা শৈলী, রাখালরাজ মুখ্যপাধ্যায় ।
মাধ্যমিক বাংলা সহায়িকা ,অধ্যাপিকা কবিতা চক্রবর্তী ।
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা সমগ্র , পীযূষ দে ।

pijush sarkar

I am Pijush kanti sarkar, assistant teacher of Ekdala jb school . I have passed Higher secondary education in rampurhat in 2003 with science. Next B.SC in burdown university.I have passed M.SC degree with Zoology subject. Besides i completed computer course and B.SC in LIBRARY SCIENCE, Environment related topics are my favourite from childhood.

You may also like...

1 Response

  1. ￰খুব ভালো লাগলো পোস্ট টা পরে .ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *