Self Esteem(আত্মমর্যাদা)

Categories health
SELF ESTEEM

Self Esteem(আত্মমর্যাদা)

SELF ESTEEM

 

INTRODUCTION :

আত্মমর্যাদা হলো এক ধরনের সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক সংগঠক ( Socio Psychological Construct)। এইজন্যই গবেষকগণ  Self- Esteem কে ব্যক্তির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের অন্যতম নির্ধারক হিসাবে বিবেচনা করেছেন ।যেমন তার শিক্ষাগত পারদর্শিতা , সুখী মানসিকতা ইত্যাদি । Self- Esteem  বা আত্মমর্যাদা কে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। আবার সামগ্রিক ক্ষেত্রে বিচার করা যায় । ব্যক্তি নিজের প্রতি যে মূল্য আরোপ করে তাকে বলা হয় আত্মমর্যাদা  বা Self- Esteem ।এক কথায় বলা যায় যে নিজের ক্ষমতাবলি ও গুণাবলী  সম্পর্কে ব্যক্তির ধারণাকে আত্মমর্যাদা বলে ।তবে নিজের সম্পর্কে ব্যক্তির ধারণা কেবলমাত্র তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে না অন্যরা তার প্রতি কি মনোভাব পোষণ করেন তাও ব্যাক্তি বিবেচনা করে। এই কারণে আত্মমর্যাদা (Self- Esteem) কে আত্মবোধ (Self-Concept)এর পরিমাপের অংক বলা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় মনোবিদগন আত্মমর্যাদা কে ব্যাক্তিত্বের  সংলক্ষন হিসাবে বিবেচনা করেছেন।

আত্মমর্যাদার (Self- Esteem) সংজ্ঞাঃ

দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক উইলিয়াম জেমস সর্বপ্রথম আত্মমর্যাদা (Self- Esteem) কে নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক সংগঠক হিসাবে ব্যাখ্যা করেন ।জেমস বহুমাত্রিক  ‘Self ‘বা ‘নিজ’ কে  দুটি কমাপর্যায়ভিত্তিক শ্রেণীতে বিভক্ত করেন, যেমন জানার প্রক্রিয়া থাকে (যাকে I Self  বলে) এবং জানার ফল (যাকে Me Self বলে)  । নিজেকে পর্যবেক্ষণ কর এবং পর্যবেক্ষণের ফলে নিজের সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয় যাকে ‘ Me Self’ বলে । জেমসের মতে ” Me Self ” কে   তিন ভাগে ভাগ করা যায়।যেমন বস্তুসত্তা , সামাজিক সত্তা এবং আধ্যাত্মিক সত্তা। সামাজিক সত্তা যা অন্যদের দ্বারা সমর্থিত হয় তাকে self-esteem বা আত্মমর্যাদা বলে।

বিংশ শতাব্দীর আচরণবাদ :

বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে মনস্তাত্ত্বিক জগতে আচরণবাদের বিশেষ প্রাধান্য দেখা যায় ।আচরণবাদী মনস্তাত্ত্বিকগণ মনস্তত্ত্বাকে প্রকৃতি বিজ্ঞানের ন্যায় পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেন। তারা মনের বাহ্যিক  প্রকাশ কে অর্থাৎ আচরণকে পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপ করা যায় তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন। স্বাভাবিকভাবেই অন্তর্দর্শন এবং নিজেকে জানার বিষয় অবহেলিত হয়। এই কারণেই “self” সম্পর্কিত ধারণা গুলোর উপর অধ্যায়ন আচরণবাদীদের  মধ্যে দেখা যায় না।1960 খ্রিস্টাব্দে মধ্যভাগে সমাজতাত্ত্বিক মরিস রোজেনবার্গ আত্মমর্যাদার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন – আত্মমর্যাদা হলো আত্তমূল্য সম্পর্কে অনুভূতি (Felling of Self – Worth)। উল্লেখযোগ্য আত্মমর্যাদা কে পরিমাপের জন্য তিনি একটি স্কেল প্রস্তুত করেন যা সমাজতত্ত্বে বহুল ব্যবহৃত।

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মানবতাবাদী মনস্তত্ত্ব (Humanistic Psychology) বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যার ফলে আত্ম সম্পূর্ণ করণে এবং মানসিক ব্যাধি চিকিৎসায় self-esteem বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। মনস্তত্ত্ববিদ গন মনে করতে শুরু করেন মনোচিকিৎসা এবং উচ্চমাত্রার মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির সন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পর্ক আছে। এই ধারণা আত্মমর্যাদা ধারণার মধ্যে এক নতুন দিনের সূচনা করে। একজন ব্যক্তি কি কারণে নিজের মর্যাদা সম্পর্কে আস্থাহীন হয় এবং কেন সে নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে ইচ্ছা প্রকাশ করে না।

 

Types of Self Esteem:

Mortin Ross আত্মমর্যাদা কে তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন

  1. ভেঙে পড়া (Shattered )

  2. সুরক্ষিত নয় (Vulnerable)

  3. শক্তিশালী বা সুরক্ষিত (Strong)

 

1.ভেঙে পড়া (Shattered )-

ভেঙেপড়া আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যাক্তিগন নিজেদের সম্মানযোগ্য বা ভালবাসার যোগ্য বলে মনে করে না। তারা পরাজয়্‌  , ব্যর্থতা ,অস্বস্তি ইত্যাদি তারা খুবই বিব্রত হয় ।যার ফলে তারা নিজেদের অক্ষম এবং অযোগ্য বলে মনে করে। একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে কোন ব্যক্তি যদি মনে করে নির্দিষ্ট বয়সের অধিক হলে ব্যক্তির ক্ষমতা হয় সেক্ষেত্রে তারা নিজেদের সেই বয়সে উপনীত হয়েছে বলে মনে করে।

2.সুরক্ষিত নয় (Vulnerable)

এই ধরনের ব্যক্তিরা ধনাত্মক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন (Positive Self Esteem)  ,তবে ঝুঁকির দিকটা যেমন পরাজয়্‌  ,লজ্জা  ,অসম্মান ইত্যাদি প্রত্যক্ষ করার ফলে তাদের আত্মমর্যাদা সুরক্ষিত নয় । অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা নার্ভাস হয় এবং প্রতিরক্ষা কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। এই শ্রেণীর ব্যক্তিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত হয়। যদিও কোন না কোন ক্ষেত্রে এদের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রার আত্মবিশ্বাস দেখা যায়। তবে এর উৎস হলো অতিরিক্ত “নার্ভাসনেস “। অনেক সময় ব্যাক্তিগন মর্যাদা বজায় রাখার জন্য অন্যের প্রতি দোষারোপ করে।অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায়  এরা অংশগ্রহণ করে না।সহপাঠী বা বন্ধুদের সমর্থন হারানোর ভয়ে এরা অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ঝাপিয়ে পড়ে যা তাদের পক্ষে অসুবিধার কারণ হয়।

self esteem

3.শক্তিশালী বা সুরক্ষিত (Strong)

শক্তিশালী আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ ধনাত্মক আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং মানসিক দিক থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী হয় ।যার ফলে ব্যর্থতা  ,পরাজয় , লজ্জা ইত্যাদি আশঙ্কায় তাদের আত্মমর্যাদা ব্যাহত হয় না । ব্যর্থতার ভীতি এদের মধ্যে কম। এই ধরনের ব্যক্তি সকল নম্র ভদ্র এবং উৎফুল্ল হয়। এরা একদিকে যেমন নিজেদের প্রচার করে না অন্যদিকে তেমনি নার্ভাস হয়না । ব্যর্থতার আশঙ্কায় এরা নিজেদের সরিয়ে নেই না ।এবং সর্বদা প্রতিরক্ষা কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে না। এরা লক্ষ্য অর্জন সর্বতোভাবে চেষ্টা করে । ব্যর্থ হলেও তাদের আত্মমর্যাদায় হানি হয় না ।এরা নিজেদের সঠিকভাবে চেনে । সামাজিক মর্যাদাহানি হওয়ার ভয়ে ভীত হয় না এবং সুখী জীবনযাপন করে।

Characteristic of self esteem

আত্মমর্যাদার অর্থ এবং ধারণা স্পষ্ট করার লক্ষ্যে উচ্চ এবং নিম্ন মাত্রার আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যাবলী নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

উচ্চমাত্রার আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যাবলী

  1. নির্দিষ্ট মূল্যবোধ এবং নীতির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস এবং অন্যের বিরোধিতা সত্ত্বেও এই গুলি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। প্রয়োজনমতো নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে মূল্যবোধকে সংশোধন করতে দ্বিধাবোধ করে না।
  2. নিজের পছন্দমত কর্মে সক্রিয় হওয়া ,নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল হওয়া  , অন্যান্যরা  যদি তার পছন্দ অনুমোদন না করে সেক্ষেত্রে নিজেকে অপরাধী না করা।
  3. সমস্যা সমাধানে তারা আত্মবিশ্বাসী, অসুবিধা বা ব্যর্থতায় ভেঙে যায় না । প্রয়োজনবোধে অন্যদের সহযোগিতায় এরা প্রার্থনা করে।
  4. অন্যদের বিশেষ করে বন্ধুদের নিকট তাদের প্রয়োজনীয় এবং আকর্ষণ যোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন ।
  5. এরা বৈচিত্র মূলক কাকে উপভোগ করে।
  6. অন্যদের আবেগ এবং চাহিদার প্রতি অনুভূতিশীল।
  7. সমর্থনযোগ্য সামাজিক নিয়ম কানুনের প্রতি এরা শ্রদ্ধাশীল। অন্যদের সহযোগিতায় বা অন্যদের ওপর নির্ভর করে সাফল্য অর্জনে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।
  8. সমস্যা সমাধানে এরা সক্রিয় হয়। চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও নিজেদের এবং অন্যদের ছোট না করে এরা বিতর্কে পবিত্র হয়।

নিম্ন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যাবলী

  • সর্বদা আত্মসমালোচনায় ব্রত হয় এবং অসন্তোষ  প্রকাশ করে।
  • এরা সিদ্ধান্তহীনতায় অতিরিক্ত ভোগে এবং অধিক মাত্রায় ভুল করার ভয়ে ভীত হয় ।
  • বিভিন্নভাবে অপরকে সন্তুষ্ট রাখতে চাই এবং কাউকে অসন্তুষ্ট রাখতে চায় না ।
  • সমালোচনায় এরা উগ্রতা প্রকাশ করে। সমালোচকদের প্রতি বিরক্ত হয় এবং নিজেকে আক্রান্ত বলে মনে হয়।
  • বাস্তব কোনো  কারণ ছাড়াই এদের মধ্যে উগ্রতা , বিদ্রোহ অসন্তোষ দেখা যায় ।
  • এরা নৈরাশ্যবাদী এবং সাধারণভাবে এরা ঋণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ।
  • সাময়িক দুঃখ বা ব্যর্থতাকে এরা স্থায়ীভাবে দেখে এবং অসহ্য বলে মনে করে।
  • নিজের মূল্যায়নে অনেককে অপরের সমর্থন বা প্রশংসার আশ্রয় গ্রহণ করে।আবার অনেকে নিজের সফলতাকে ভিত্তি করে এবং সফল না হলে নিজেকে ব্যর্থ বলে মনে করে।

Self Esteem

IMPORTANT OF SELF ESTEEM

 

মনোবিদগন ব্যক্তি জীবন এবং সমাজ জীবনে আত্মমর্যাদার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। কারণ একদিকে যেমন এর সাহায্যে আমরা আমাদের চিনতে পারি অপরদিকে তেমনি অন্যরা আমাদের কি চোখে দেখে তা বুঝতে পারি। মানবতাবাদী ‘কাল রজার্স’এর মতে আমাদের বহু সমস্যার উৎস হলো আমরা নিজেরা নিজেদের অযোগ্য বলে মনে করি  যে , অযোগ্যতার কারণে আমরা অন্যদের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হই এবং অপছন্দের কারণ হই।

নিম্নে আত্মমর্যাদা গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো –

1.মানসিক সুস্থতা –

“আব্রাহাম মাসলোর” রতে মতে ,মানসিক সুস্থতা সম্ভব নয় যদি ব্যক্তির মূল বৈশিষ্ট্য গুলি নিজের এবং অন্যদের দ্বারা সমর্থিত না হয় এবং ভালোবাসা ও যথার্থতা সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়। Self Esteem(আত্মমর্যাদা) ব্যক্তিকে আস্থার সঙ্গে সমস্যা সমাধানের প্রেষণা সঞ্চার করে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহযোগিতা করে।

আত্মমর্যাদা ব্যক্তিকে জীবনে সুখী হতে প্রেরণা জোগায় । ব্যক্তি অন্যদের সম্মান প্রদর্শন করে ।যার ফলে পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দ্বন্ধ্ব , বিবাদ ,  মনোমালিন্য দূর হয়।

2.সৃজনশীলতা –

আত্মমর্যাদা  বা self-esteem কার্যক্ষেত্রে বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে সৃজনশীল হতে সাহায্য করে।

3.আচরণগত বিশৃংখলার প্রতিরোধ –

Jose Viceute Bonet এর মতে , আত্মমর্যাদা ঘাটতির ফলে ব্যক্তি অন্যান্যদের থেকে শ্রদ্ধা বা ভালোবাসা হারানোর পরিবর্তে নিজের প্রতি আস্থা হারায় , যা ব্যক্তির পক্ষে ক্ষতিকর । Bonet এর মতে এর ফলে ব্যক্তি হতাশায় আক্রান্ত হয়। ফ্রয়েডও প্রায় একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজের প্রতি আস্থা হারায়।

4.কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা –

2000 খ্রিস্টাব্দে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (World Health Organization) কর্তৃক প্রকাশিত “Preventive Suicide” পুস্তকে  উল্লেখ করা হয় শিশু এবং বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ তাদের মধ্যে আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ।এর ফলে তারা কঠিন সময় এবং সংকটময় পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করতে সচেষ্ট হয়।

 

SELF ESTEEM

5.শ্রেণিকক্ষে সাফল্য –

1970 থেকে 1990 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আমেরিকার একাধিক সমীক্ষায় শিক্ষার্থীদের আত্ম মর্যাদার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে সফলতা , সহপাঠীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং পরবর্তী জীবনে সফলতার সঙ্গে ধনাত্মক সম্পর্কে প্রমাণ পাওয়া গেছে ।এই কারণেই আমেরিকার কয়েকটি শিক্ষা সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মমর্যাদার বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হয়।

6.ক্ষমা প্রদর্শন-

আত্ম মর্যাদার সঙ্গে ক্ষমা প্রদর্শনের ধনাত্মক সম্পর্ক দেখা গেছে । উচ্চমাত্রার আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি নিম্নমাত্রার আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক ক্ষমাশীল হয়।

7.জীবন সহজ ও হালকা হয় –

আত্মমর্যাদা বৃদ্ধির ফলে জীবন সহজ ও হালকা হয় । যখন কেউ নিজেকে পছন্দ করবে , ভালোবাসবে তখন তাঁর জীবন সহজ এবং নিজেকে হালকা বোধ লাগবে । সামান্য ভুল হলে নিজেকে তিরস্কার করবে না এবং লক্ষ্য পূরণ না হলেও হতাশ হবে না । নিজেকে অসহায় বলে মনে করবে না।

8.আভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় –

আত্মমর্যাদার ফলে আভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় । যখন কেউ নিজেকে ভালবাসবে , নিজের প্রতি আস্থাশীল হবে তখন সে অন্যান্যদের মতামতের উপর নির্ভরশীল হবে না । যার ফলে তার অভ্যন্তরীন জীবনধারা অন্যদের মন্তব্যের দ্বারা বিচলিত হবে না এবং সে নিজে বিব্রত বোধ করবে না।

9.অন্তর্ঘাত বা নিজের ক্ষতির প্রবণতা হ্রাস পায় –

অধিকাংশ ব্যক্তির চরম শত্রু হলো সে নিজে । ব্যক্তির আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পেলে এবং তা বজায় রেখে চললে জীবনে ভালো দিকটা সে দেখতে পায় এবং তার লক্ষ্য অর্জনে  সে অনুপ্রাণিত হয়।  যখন লক্ষ্য অর্জিত হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্তর্ঘাত  বা নিজের ক্ষতি করার বিষয়টি  হ্রাস পায়।

Self Esteem

 

Role of Parent in developing self esteem

শিশুদের মধ্যে ইতিবাচক আচরণ গঠনে পরিবার বিশেষ করে পিতা-মাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন।নিচে এই বিষয়ে উল্লেখ করা হলো –

১/শিশু পিতা-মাতার অনুকরণ করেঃ

শিশু পিতা-মাতাকে প্রত্যক্ষভাবে অনুকরণ করে। পিতা মাতা শিশুর নিকট ‘রোল মডেল ‘।  সেজন্য শিশুর মধ্যে ধনাত্মক আচরণ গঠন করতে হলে পিতা-মাতাও সেই ধরনের আচরণ করবেন।

২/পিতা মাতার অনুভূতি শিশুকে প্রদর্শন করতে হবেঃ

পিতা মাতার উপর শিশুর আচরণের প্রভাব শিশুকে পষ্ট ভাবে বোঝাতে হবে ।এর মাধ্যমে শিশু তার অনুভূতির সঙ্গে পিতা-মাতার অনুভূতির সম্পর্ক বুঝতে পারবে।

৩/ভালো আচরণের জন্য উৎসাহ দানঃ

পিতা-মাতার প্রতি সে যে আচরণ করে সেক্ষেত্রে  ধনাত্মক ফিডব্যাক দেওয়া  প্রয়োজন।

৪/শিশু স্তরে বা পর্যায়ে পিতা-মাতাকে নামতে হবেঃ

শিশু স্তরে বা পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে এসে তার সঙ্গে কথা বললে কথাগুলি খুব শক্তিশালী হয়। শিশুর নিকটবর্তী হয়ে কথা বললে অনুভূতি এবং চিন্তাভাবনাকে সহজেই বোঝা যায়। এর ফলে শিশু সহজেই পিতা-মাতার কথা অর্থাৎ পিতা মাতা কি চায় তা বুঝতে পারবে। পিতা-মাতা যদি শিশুর কাছে এসে তার মনোযোগ আকর্ষন করতে সক্ষম হয় তাহলে শিশুর প্রতি তার তাকানোর কোন প্রয়োজন হয় না।

৫/প্রতিজ্ঞা  পুরান করাঃ

শিশুকে কথা দিয়ে যদি কথা রাখা হয় তাহলে শিশু পিতা-মাতাকে বিশ্বাস করবে এবং শ্রদ্ধা বারবে।

৬/প্রলোভন হ্রাস করাঃ

পিতা-মাতা যদি শিশুর নাগালের মধ্যে খুব দামি এবং সুন্দর জিনিস রাখেন তাহলে শিশুর পক্ষে সেই দ্রব্যে হাত দেওয়া এবং নড়াচড়া করা স্বাভাবিক আচরণ। শিশুকে সেই ধরনের আচরণে প্রলোভন করা উচিত নয়।এইধরনের দ্রব্য শিশুর নাগালের বাইরে রাখা উচিত।

৭/শিশুর জেদ কে প্রশ্রয় না দেয়া বা শক্ত হওয়াঃ

শিশুরা বিরক্ত হতে চায় না। যদি কোনো ব্যাপারে তারা বিরক্ত হয় অর্থাৎ চেঁচামেচি বা গন্ডগোল করে সেক্ষেত্রে আপনি অথবা পিতা-মাতার কিছু না বলাই উচিত। কারণ যদি প্রথমে নিষেধ করে , শিশুর বশ্যতা স্বীকার করেন  তবে পরবর্তী সময়ে শিশু কৌশলটি বেশি করে করবে।

৮/শিশুকে স্বাধীনতা দেওয়াঃ

পিতা-মাতা যদি শিশুরা কোন আচরণ নিষেধ করেণ সেক্ষেত্রে প্রথমে দেখা দরকার সেই আচরণ নিষেধের আদৌ কোনো গুরুত্ব আছে কিনা। কারণ শিশুকে স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন। নির্দেশ দান,অনুরোধ এবং ঋনাত্বক ফিডব্যাক ন্যূনতম করে স্বাধীনভাবে আচরণ করার পরিবেশ তৈরি করলে দ্বন্দ্ব এবং অসন্তোষ কমে যাবে। যা ইতিবাচক আচরণে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

৯/সহজ এবং ধনাত্মক নির্দেশে ব্যবহারঃ

শিশুকে স্পষ্ট ধনাত্মক নির্দেশ দেওয়া উচিত। তাহলে সে বুঝতে পারবে তার কাছে পিতা-মাতা কি প্রত্যাশা করছেন। ধনাত্মক নির্দেশ শিশুর ক্ষেত্রে অধিক কার্যকারী হয়।

১০/দায়িত্ব এবং তার ফলাফলঃ

শিশুর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিজের আচরণের ওপর তাকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং নিজের আচরণের ফলাফল তাকে বুঝতে দিতে হবে।

১১/শিশুকে তার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করাঃ

পরিবারের জন্য কিছু করতে পারলে সব শিশুরই ভালো লাগে। এমন কিছু কাজে পবিত্র করতে হবে যেগুলি সে করতে সক্ষম হবে। ফলে শিশু পরিবারের তার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হবে এবং গর্ববোধ করবে তার আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

 

Bibliography

  1. চক্রবর্তী , ডক্টর দীপন এবং সামন্ত , অরুনাভ “ স্বাস্থ্য ও শারীর শিক্ষা” আহেলি পাবলিকেশন , কোলকাতা -07 ,প্রথম প্রকাশ 27 মার্চ 2017।
  2. “নতুন সূর্য স্বামী রামদেব ও তার সহজ প্রাণায়াম প্রাণায়াম” দুর্গা প্রকাশনী।
  3. পাল ,ডক্টর দেবাশিষ এবং দাস, অজিত “যোগ শিক্ষা আত্মবোধ ও বিকাশ” , রিতা বুক এজেন্সি , কলকাতা -07 ,প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি 2017 -18
  4. পাল, সুরজিৎ এবং কবিরাজ , উদয় শংকর ও পন্ডিত, অভিজিৎ “যোগ শিক্ষা আত্মউপলব্ধি ও বিকাশ”।
  5. ভট্টাচার্য্য, উদয়াদিত্য , “যোগ শিক্ষায় আত্মবোধ ও তার বিকাশ” রীতা পাবলিকেশন কোলকাতা -07 , প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর 2016-17
  6. সরস্বতী , শ্রীমৎ স্বামী বিবেকানন্দ , শিবানন্দ , “যোগ বলে আরোগ্য” জয়গুরু প্রেস , কলকাতা -06 , প্রথম সংস্করণ 1355 বঙ্গাব্দ, প্রথম প্রকাশ  ,বিংশতি মুদ্রণ -গুরু পূর্ণিমা, 1403 বঙ্গাব্দ।

self esteem

pic ; https://pixabay.com/

Also read : Cord Blood

 

 

I am Pijush kanti sarkar, assistant teacher of Ekdala jb school . I have passed Higher secondary education in rampurhat in 2003 with science. Next B.SC in burdown university.I have passed M.SC degree with Zoology subject. Besides i completed computer course and B.SC in LIBRARY SCIENCE, Environment related topics are my favourite from childhood.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *